বিকাশ অ্যাকাউন্ট কীভাবে খুলবেন এবং টাকা জমানো শুরু করবেন: সহজ গাইড সাথে উদাহরণ

WhatsApp
Telegram
Facebook
Twitter
LinkedIn
বিকাশ অ্যাকাউন্ট কীভাবে খুলবেন এবং টাকা জমানো শুরু করবেন

আজকের দ্রুতগতির জীবনে টাকা জমানোকে জটিল করার দরকার নেই। বাংলাদেশের মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস যেমন বিকাশ, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ বা অল্প আয়ের লোকদের জন্য সেভিংস সহজ করে দিয়েছে।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট কীভাবে খুলবেন এবং টাকা জমানো শুরু করবেন: সহজ গাইড সাথে উদাহরণ

আজকের দ্রুতগতির জীবনে টাকা জমানোকে জটিল করার দরকার নেই। বাংলাদেশের মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস যেমন বিকাশ, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ বা অল্প আয়ের লোকদের জন্য সেভিংস সহজ করে দিয়েছে। বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহমেদের সাথে ফিনটক উইথ জেমুন্নেসা আলো শো-এর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এখানে সবকিছু জানুন: বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা, ডিপোজিট স্কিম অ্যাক্সেস করা এবং ছোট লোন নেওয়া। আপনি যদি গৃহিণী, দৈনিক মজুর বা নতুন শুরু করছেন, বিকাশের ফিচারগুলো আপনার জন্যই। এই লেখাটা সহজ ভাষায় লেখা, উদাহরণ সহ, যাতে পড়তে সুবিধা হয়।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা: সহজ এবং ফ্রি

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা খুবই সোজা এবং কোনো টাকা লাগে না। আলী আহমেদ বলেছেন, দুটো উপায় আছে:

  1. অ্যাপ দিয়ে নিজে খোলা: স্মার্টফোন থাকলে বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করুন। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে নিজের একটা সেলফি তুলুন। সিস্টেমটি ইলেকশন কমিশনের ডেটাবেজের সাথে মিলিয়ে তাৎক্ষণিক অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়। কোনো কাগজপত্র বা ভিজিট লাগে না—শুধু বাড়িতে বসে কয়েকটা ট্যাপ।
  2. এজেন্টের মাধ্যমে খোলা: অ্যাপ না থাকলে বাংলাদেশজুড়ে বিকাশের ৩ লক্ষের বেশি এজেন্ট পয়েন্টে যান। এনআইডি নিয়ে যান, এজেন্ট আপনার ছবি তুলবে এবং ভেরিফাই করবে। এটাও তাৎক্ষণিক এবং ফ্রি।

বিকাশ এখন সারাদেশে ৮ কোটি ১০ লক্ষ গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। অ্যাকাউন্ট খুললে আপনি ক্যাশ-ইন, ক্যাশ-আউট, মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট ইত্যাদি করতে পারবেন—সব ডিজিটালি।

উদাহরণ: ধরুন, আপনি গ্রামে থাকেন এবং স্মার্টফোন আছে। অ্যাপ খুলে এনআইডি স্ক্যান করুন, সেলফি তুলুন—৫ মিনিটে অ্যাকাউন্ট রেডি! এখন আপনি ৫০০ টাকা ক্যাশ-ইন করে মোবাইল রিচার্জ করতে পারেন।

বিকাশের ডিপোজিট স্কিম: সবার জন্য নমনীয় সেভিংস

বিকাশ শুরুতে ক্যাশ লেনদেনের জন্য ছিল, কিন্তু গ্রাহকদের চাহিদায় সেভিংস প্রোডাক্ট চালু করেছে। লক্ষ্য? ৮ কোটি গ্রাহকের জন্য, বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরের লোকদের জন্য ব্যাংকিং সহজ করা। মার্কেট রিসার্চের পর বিকাশ টপ-রেটেড ব্যাংকের সাথে পার্টনারশিপ করেছে।

অ্যাপে ডিপোজিট স্কিম কীভাবে খুঁজবেন এবং খুলবেন

  • বিকাশ অ্যাপে লগইন করুন।
  • সেভিংস বাটনে ক্লিক করুন।
  • রেগুলার ডিপিএস বা ইসলামিক ডিপিএস চয়ন করুন।
  • আপনার পছন্দ নির্বাচন করুন:
  • কিস্তির ফ্রিকোয়েন্সি: সপ্তাহে বা মাসে।
  • মেয়াদ: ৬ মাস থেকে ৪৮ মাস।
  • প্রতি কিস্তির পরিমাণ: ২৫০ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকা।
  • বিকাশ তার পার্টনারদের অপশন দেখাবে: ৫টা ব্যাংক (ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক) এবং ১টা নন-ব্যাংক (আইডিএলসি)।
  • ইন্টারেস্ট রেট কম্পেয়ার করুন (ডিজিটাল হওয়ায় প্রায়শই ব্রাঞ্চের চেয়ে বেশি) এবং পছন্দেরটা চয়ন করুন।
  • একজন নমিনি যোগ করুন (তাদের এনআইডি এবং সম্পর্ক দিন)।
  • অ্যাকাউন্ট তাৎক্ষণিক খুলে যাবে, এবং বিকাশ অটোমেটিক কিস্তি কেটে নেবে।

সবচেয়ে জনপ্রিয়? সপ্তাহে ২৫০ টাকা জমানো। ৩.৫ বছরে ৪৬ লক্ষ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। বিশেষত্ব:

  • ৩২% মহিলা।
  • ৮৮% ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরে।
  • ১৮-১৯% গৃহিণী।
  • অনেক গ্রামীণ লোক।

এটা ছোট সেভিংসকে উৎসাহিত করে, অল্প টাকা থেকে বড় সঞ্চয় তৈরি করে।

ডিপোজিটের মূল ফিচারগুলো

  • দৈনিক ইন্টারেস্ট গণনা: প্রতিদিনের জন্য ইন্টারেস্ট পাবেন—আর্লি উইথড্রয়ালে পেনাল্টি নেই।
  • নমনীয়তা: নিজের ব্যাংক, পরিমাণ এবং ডিউ ডেট চয়ন করুন (যেমন, বেতনের পর ২৬ তারিখ বা প্রতি শুক্রবার)।
  • রিমাইন্ডার এবং অটো-ডিডাকশন: ডিডাকশনের আগের দিন এসএমএস আসবে। ব্যালেন্স রাখুন, বাকি অটো হবে।
  • আর্লি ক্যান্সেল: জরুরি দরকার? যেকোনো সময় ক্যান্সেল করুন, প্রিন্সিপাল + আগের দিনের ইন্টারেস্ট তাৎক্ষণিক বিকাশ ব্যালেন্সে ফিরে আসবে।
  • কোনো চার্জ নেই: খোলা, মেনটেনেন্স বা ক্যান্সেল—সব ফ্রি। ট্রেডিশনাল ব্যাংকে মিনিমাম ব্যালেন্স (যেমন ১,০০০ টাকা) বা চার্জ লাগে।
  • নিরাপত্তা: টাকা রেগুলেটেড ব্যাংকে থাকে। সেন্ট্রাল ব্যাংকের ইনস্যুরেন্স কভার করে, এবং বিকাশ টপ-রেটেড পার্টনার নিশ্চিত করে। অন-ডিমান্ড উইথড্রয়াল গ্যারান্টিড।

উদাহরণ: ধরুন, আপনি সপ্তাহে ২৫০ টাকা ১২ মাসের জন্য জমাতে চান। অ্যাপে সেভিংসে যান, ২৫০ টাকা চয়ন করুন, ব্র্যাক ব্যাংক সিলেক্ট করুন। প্রতি শুক্রবার অটো কাটবে। ১২ মাস পর ১৩,০০০ টাকা + ইন্টারেস্ট (যেমন ৯% রেটে অতিরিক্ত ৫০০-৬০০ টাকা) পাবেন। জরুরি? ৬ মাস পর ক্যান্সেল করলে ৬,৫০০ টাকা + ইন্টারেস্ট ফিরে আসবে।

ফিনান্সিয়াল প্রোফাইল তৈরি: সেভিংস থেকে আরও সুযোগ

বিকাশ দিয়ে সেভিংস করলে আপনার পার্টনার ব্যাংকে প্রোফাইল তৈরি হয়। এটা আপগ্রেডের পথ খোলে:

  • ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা বাড়ান।
  • পার্টনার ব্যাংকের (যেমন ব্র্যাক বা সিটি) ফুল অ্যাপ অ্যাক্সেস পান।
  • কোনো ভৌগোলিক বাধা নেই: সুন্দরবনের গ্রাম থেকে ব্র্যাক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন, ব্রাঞ্চ না গিয়ে।

ইনফরমাল অপশন যেমন সমিতি বা বাড়িতে টাকা লুকানোর চেয়ে বিকাশ নিরাপদ এবং প্রোডাক্টিভ। সমিতিতে রিস্ক আছে (যেমন, লোক পালিয়ে যায়)। বিকাশ টাকা ইকোনমিতে চালু করে—ব্যাংক লোন দিয়ে পাওয়ার প্লান্ট বা গার্মেন্টস তৈরি করে, চাকরি সৃষ্টি করে।

উদাহরণ: এক গৃহিণী সমিতিতে ৩০০ টাকা মাসে জমান। সমিতি পালিয়ে গেলে টাকা হারান। বিকাশে জমালে সেন্ট্রাল ব্যাংকের ইনস্যুরেন্সে নিরাপদ, এবং টাকা দেশের উন্নয়নে ব্যবহার হয়।

ন্যানো লোন: জরুরি টাকার জন্য দ্রুত সাহায্য

বিকাশ সিটি ব্যাংকের সাথে ন্যানো লোন চালু করেছে, ৫৬ লক্ষ গ্রাহককে সাহায্য করছে। বিস্তারিত:

  • পরিমাণ: ৫০০ টাকা থেকে ৫০,০০০ টাকা (ক্রেডিট স্কোরের ভিত্তিতে)।
  • যোগ্যতা: আপনার ডেমোগ্রাফিক্স, কেওয়াইসি এবং ট্রানজাকশন হিস্টরির ভিত্তিতে।
  • প্রক্রিয়া: অ্যাপে তাৎক্ষণিক অ্যাপ্রুভাল। বিল পে, ফান্ড ট্রান্সফার বা সেভিংসে ব্যবহার করুন।
  • রিপেমেন্ট: সময়মতো ফেরত দিলে লিমিট বাড়ে, প্রতি মাসে রিভিউ হয়।

উদাহরণ: মায়ের ওষুধের জন্য ১,০০০ টাকা লাগলে অ্যাপে লোন নিন। ফেরত দিলে পরেরবার ২,০০০ টাকা লিমিট পাবেন। বাবুর টিউশন ফি দিতে সাহায্য করে, টেনশন ফ্রি।

কেন বিকাশে সেভিংস করবেন? ফিনান্সিয়াল স্বাধীনতার পথ

বিকাশের স্কিম প্রান্তিক লোকদের জন্য ব্রিজ—সমিতির রিস্ক ছাড়া। বেশি ইন্টারেস্ট (কম খরচের কারণে), সহজ অ্যাক্সেস এবং ফ্রি ফি—সব উইন-উইন। আলী আহমেদ বলেছেন, এটা অসমর্থিতদের (মহিলা, গ্রামীণ, অল্প আয়) সশক্ত করে।

ব্যাংকিং-এ অনাস্থা থাকলে বিকাশ চেষ্টা করুন। ২৫০ টাকা সপ্তাহে শুরু করুন, দেখুন সেভিংস বাড়ছে।

বিকাশ সেভিংস চেষ্টা করেছেন? কমেন্টে শেয়ার করুন!

*এই পোস্ট *দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড*-এর *ফিনটক উইথ জেমুন্নেসা আলো* সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে। লেটেস্ট ডিটেলসের জন্য বিকাশ অ্যাপ বা ওয়েবসাইট চেক করুন।*

Recent Posts