ফিতরা কত টাকা ২০২৬ বাংলাদেশে নির্ধারিত হয়েছে তা রমজান মাসের শেষ সময়ে সবারই জানা দরকার। কারণ ঈদুল ফিতরের আগে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। তাই ফিতরা কত টাকা ২০২৬ এবং কিভাবে হিসাব করবেন তা বিস্তারিতভাবে জানুন এখানে।
ফিতরা কী
ফিতরা বা সাদাকাতুল ফিতর হলো রমজান শেষে ঈদের নামাজের আগে গরিবদের মাঝে প্রদান করা একটি নির্ধারিত দান। এটি রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণ করে এবং দরিদ্র মানুষের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করে। এ বিষয়ে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফিতরা নির্ধারণ করেছেন।
ফিতরা কত টাকা ২০২৬ বাংলাদেশে
ফিতরা কত টাকা ২০২৬ তা প্রতি বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নির্ধারণ করে। ২০২৬ সালের জন্য ফিতরার সর্বনিম্ন হার নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা যা আটা বা গমের বাজারদরের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। আর সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয় কিসমিস বা উন্নত মানের খাদ্যের ভিত্তিতে।

নিচে ফিতরা কত টাকা ২০২৬ অনুযায়ী একটি টেবিল ফরম্যাট দেওয়া হলো। এখানে সাধারণ খাদ্যদ্রব্যভিত্তিক হিসাব দেখানো হয়েছে।
ফিতরা কত টাকা ২০২৬ (ফিতরা কত টাকা ২০২৬ বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ তথ্যসূত্রে)
| খাদ্যদ্রব্য | পরিমাণ (প্রতি ব্যক্তি) | আনুমানিক মূল্য (টাকা) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| আটা | ১.৬৫ কেজি | ১১৫ টাকা | সর্বনিম্ন হার হিসেবে ধরা হয় |
| গম | ১.৬৫ কেজি | ১২০ টাকা | বাজারদর অনুযায়ী পরিবর্তনশীল |
| চাল | ১.৬৫ কেজি | ১৫০ টাকা | মধ্যম হার |
| খেজুর | ৩.৩০ কেজি | ৮০০ টাকা | উন্নত মান অনুযায়ী |
| কিসমিস | ৩.৩০ কেজি | ১৫০০ টাকা | সর্বোচ্চ হার হিসেবে ধরা হয় |
ফিতরা কত টাকা ২০২৬ পরিবারভিত্তিক মোট ফিতরা হিসাবের
| পরিবারের সদস্য সংখ্যা | জনপ্রতি ফিতরা (সর্বনিম্ন ১১৫ টাকা) | মোট ফিতরা (টাকা) |
|---|---|---|
| ১ জন | ১১৫ | ১১৫ |
| ৩ জন | ১১৫ | ৩৪৫ |
| ৫ জন | ১১৫ | ৫৭৫ |
| ৭ জন | ১১৫ | ৮০৫ |
নোট: ফিতরা কত টাকা ২০২৬ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ ও প্রকাশ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। তাই উপরের টেবিলটি কাঠামো বোঝানোর জন্য।
সর্বশেষ নির্ধারিত হার জানতে ভিজিট করুন
Islamic Foundation Bangladesh
ওয়েবসাইট: https://islamicfoundation.gov.bd
ফিতরা হিসাব করার নিয়ম
ফিতরা সাধারণত এক সা পরিমাণ খাদ্যের সমমূল্য। বাংলাদেশে সাধারণত ১.৬৫ কেজি আটা বা গমের মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়।
যদি পরিবারের সদস্য ৫ জন হয়, তাহলে
জনপ্রতি ফিতরা × ৫ = মোট ফিতরা।
ফিতরা কত টাকা ২০২৬ তা জানার পর পরিবারের সকল সদস্যের জন্য আলাদা করে হিসাব করুন।
কাদের উপর ফিতরা ওয়াজিব
যে ব্যক্তি ঈদের দিন নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক, তার ওপর নিজের এবং তার নির্ভরশীল সদস্যদের ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব। ছোট শিশুদের পক্ষ থেকেও অভিভাবককে ফিতরা দিতে হবে।
কাদেরকে ফিতরা দেওয়া যাবে
ফিতরা গরিব, মিসকিন এবং যাকাতপ্রাপ্য ব্যক্তিদের দেওয়া যায়। আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কেউ গরিব হলে তাকে দেওয়া উত্তম। তবে পিতা-মাতা বা সন্তানের ক্ষেত্রে ফিতরা দেওয়া যাবে না।
কখন ফিতরা দিতে হবে
ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করা উত্তম। রমজানের শেষ দিনগুলোতে আগেও দেওয়া যায়। তবে ঈদের নামাজের পর দিলে তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হবে।
অনলাইনে ফিতরা দেওয়া
বর্তমানে বিভিন্ন ইসলামিক সংস্থা ও ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে ফিতরা দেওয়া যায়। তবে অবশ্যই বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করা উচিত।
FAQs
প্রশ্ন: ফিতরা কি যাকাতের অংশ?
উত্তর: না, ফিতরা এবং যাকাত আলাদা ইবাদত।
প্রশ্ন: শিশুদের ফিতরা কি দিতে হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, পরিবারের অভিভাবক শিশুদের পক্ষ থেকে ফিতরা দেবেন।
প্রশ্ন: ফিতরা কত টাকা ২০২৬ কম দিলে কি হবে?
উত্তর: নির্ধারিত সর্বনিম্ন হারের কম দেওয়া ঠিক নয়।
প্রশ্ন: খাদ্য দিয়ে ফিতরা দেওয়া যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, সরাসরি খাদ্যদ্রব্য দিয়েও ফিতরা আদায় করা যায়।
শেষ কথা
ফিতরা কত টাকা ২০২৬ জানা শুধু তথ্য জানার বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অংশ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্ধারিত হার অনুযায়ী সঠিকভাবে ফিতরা আদায় করুন এবং ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নিন।









